Showing posts with label High-on-Life. Show all posts
Showing posts with label High-on-Life. Show all posts

Sunday, November 6, 2022

লাস্য - ভেগাস

নবমী নিশি তুমি হইয়ো না ভোর!! 



পাপবিদ্ধ নগরী, লাস্যময়ী ভেগাস - ঠিক যেন ব্ল্যাক-হোল ।লোকে বলে, এখানে যা ঘটে, তা চিরকাল এখানেই থেকে যায়,  হকিংস রেডিয়েশনের সব সম্ভাবনা শূন্য।  এ শহর চির যৌবনা। যৌবন তো আসলে কোনো বয়স না, নেহাৎই স্টেট অফ মাইন্ড। 

বৃষ্টিচ্ছায় মরুভূমির উষ্ণ দিন ঢলে পড়ে ভেগাস নগরীর ঠিক বাইরে, ঘিরে থাকা পাহাড়ের কোলে। অস্তমিত সেই রশ্মি, যেন মধুভান্ডের তরল সোনার মতো। গড়িয়ে পরে রুক্ষ পাথুরে গায়ে। লাল হয়ে উঠে সন্ধ্যার আকাশ, লাল আভা ক্রমে  কালচে হয়ে রাত নামায়। তখন সে মরুদ্যানের এদিকে - ওদিকে ফুটে উঠেছে আলোর ফুলকি। তপ্তভূমি ভেগাসে নামলো সবে কলির সন্ধ্যে। উছলে পরে লেসার -নিয়ন, অহেতুকী করুনাধারা যেন ।লাস্যের রাজধানী তে আজ সপ্তাহান্তের ভীড়। উচ্চগ্রামের সঙ্গীত মূর্ছনা ঘিরে রাখে এ শহর, বলয়ের মত। সেই সুরে ও তালে কাঁপছে আকাশ, কাঁপছে বাতাস - য্যুথবদ্ধ মানুষ, কাঁপছে সবাই এক সমষ্টিগত ইন্দ্রিয়লোলুপ ঝংকারে। সমষ্টিতেই সুখ; এ সুখের জীবন, পদ্মপাতায় জলের ফোঁটা যেমন। মুহূর্তটাই সত্যি, বাকি সব মায়াসম, ভ্রান্তি। 

রাত্রি এখানে অধিক লাস্যময়। কুহকিনীর স্বল্পবসন নেশাতুর দু- চোখে ফিশনেট হয়ে ঝরে পরে। গভীর লাল আলো -অন্ধকারে, মদিরাক্লান্ত নয়নে যেন স্বর্গ নেমে আসে। প্রেমিকা রূপী অপ্সরা এ-কোল ও-কোল সে- কোল ; রাত বুঝি ভোর হয়ে আসে। ক্রমে বাতাস আরো ভারি হয় লোভের গন্ধে-গন্ধে। স্ট্রিপের হোটেল থেকে হোটেলের জানলায় জমে সহস্র গল্পের কোলাজ । মরুভূমির শুষ্ক বাতাসে ফোঁটা ফোঁটা আর্দ্রতা - মদিরাহত সব নোনতা জলের। লোভের পরে লোভ জমেছে, আঁধার করে আসে - একেই কি তবে পাপ বলে? ক্লান্ত ক্যাসিনোর আড়ালে জেগে থাকে সরীসৃপ চোখ। এসির হাওয়ায় শীতল শরীর। শল্কশুষ্ক হাত ছিন্ন ভিন্ন করে মহার্ঘ অন্তর্বাস। রঙ্গীন জল ঢেলে তাতে আগুন জ্বলে ওঠে। এক রাত্রের ফুলশয্যা, যেন আরব্য রাজনীর গল্প - রূপকথার সিন্ডেরেলার মতো, সকাল হলেই সব হাওয়ায় মিলিয়ে যায় - থাকেনা স্মৃতি টুকুও। 

ভেগাস শহরের সীমানার ঠিক বাইরেই,  দিনের আলোয় উদ্ভাসিত রুক্ষ লাল ভূমিরূপ - দিন পেরোলেই অন্ধকারে তারার আলোয় ভরা আদিমতা। অদ্ভুত এক  বৈপরীত্যের সমাপতন। যে শহরে সময় ছুটছে উত্তর- আধুনিক হবে বলে, তার সীমার ঠিক বাইরে সময় যেন থমকে, ইটার্নিটির মধ্যে। সীমায় বদ্ধ মানুষ,  রেসের ঘোড়ার মতন - অলি-গলি পাকস্থলী তার একমাত্র জীবন। তবু ওর- ই মধ্যে কেউ কখনো দেখে ফেলেছিল ওই অতীন্দ্রিয় ব্যাকড্রপ।কোনোদিন চোখ ফেরাতে পারেনি আর। 

সে দেখেই চলে, নিকষ অন্ধকার আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে অন্ধকার পাহাড়, যেন চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো সেই পাহাড়, উর্দ্ধনয়না; দূর আকাশে ফিসফিসিয়ে গল্প করে ছায়াপথের সাথে। রুক্ষ পাথরের প্রহরী পাহাড় - উড়ে আসা বুদ্বুদের মতো সব মুহূর্ত জমে জমে মহাকাল সম - যেন এক ইনফাইনাইট পোটেনশিয়াল ওয়াল। 






* ছবি: হোটেলের জানলা থেকে                                                               







Friday, January 1, 2021

অজ্ঞাতবাস - a Saudade

" মনে পরে যায় গত জন্মের পাপ 
শরীরে রয়েছে চেনা শরীরের ছাপ 
তুমি নত মুখে মেনে নিলে অভিশাপ 
সাদা হিমঘর জুড়ে শীতঘুম। "



চিত্রঋন: Unsplash 





দিকচক্রবালে তাকিয়ে পড়ন্ত বিকেলের শেষ আঁচ টুকু বোঝার আগেই ঝুপ করে নেমে আসে গভীর সন্ধ্যা, এক দীর্ঘ শীতল রাত্রির প্রতিশ্রুতি নিয়ে। মেরুবায়ু বয়ে আসে, ঝুরো ঝুরো বরফ ভর্তি অতলান্তিক বিষাদ। ক্রমে অন্ধকার আরো গভীর হয়। অমাবস্যার তারকাখচিত রাতে প্রহরীর মতো জেগে থাকে ছায়াপথ। শীতল বরফে পাইন গাছের তলায় শেয়ালের আনাগোনা। সরীসৃপের মতো শীতঘুম চারিদিক পেঁচিয়ে ধরতে চায়। তারার আলোয় পথ খুঁজে বেড়ায় ক্লান্ত পথিক। বসার সময় নেই তার। শ্রান্ত শরীর ঠেলে নিয়ে যায় বরফ ভেঙে। যেতে হবে অনেক দূরে, সেই যেখানে,  নীলনয়না ডেসডিমোনা, দিন গুনছে তার পথ চেয়ে । ঐ নীল চোখে সে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে পায়। উষ্ণ সমুদ্রে জীবনের গর্জন। ঢেউ উঠছে, আর ভেঙে পড়ছে। সমুদ্রে যাবে সে। 

 সমৃদ্ধ নগরী ভেনিস। শহর-ময় প্রণালী, সদা ব্যস্ত গন্ডোলার আনাগোনায়।শোরগোল লেগেই আছে বন্দরে, জেলে-মাঝিদের ভীড়ে। সর্বদাই জাহাজের আনাগোনা। জাহাজীরা এসে ভীড় করে সরাইখানা কিংবা গণিকালয়ে। এ শহরে রাত সর্বদা রঙ্গীন। ভাগ্য ফেরানোর আশায় প্রাচ্যের বণিককুল এসে নামে, নীল বিক্রির তাগিদে, পোশাকি নাম ইন্ডিগো। তারা শুনেছে এড্রিয়াটিক তীরবর্তী ভেনিস বড়ো মনোরম জায়গা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভেসে যায় জাহাজ। শেষ বারের মতো নাবিক আলিঙ্গন করে নেয় প্ৰেয়সী কে। হয়তো চোখের জল ধরে রাখতে পারেনা। আর কোনোদিন দেখা হবে কি তাদের ? কোলাহল - শোরগোল- মদ- নারী- জৌলুশ- বাণিজ্যের হাতছানি। জেলেদের নিলাম-দর। শুকনো মাছের গন্ধ, সী - গালের পালক। টাটকা সমুদ্রের নোনতা গন্ধ বাতাসে। মধ্যযুগের ভেনিস এক মায়াবী রাজ্য। 


সূর্যাস্তের শেষ আভাটুকু দেখতে প্রতিদিন জানলার ধারের একফালি বারান্দায় আসে ডেসডিমোনা। দূর থেকে বন্দরের ভীড় দেখা যায়, শোরগোল ভেসে আসে নোনা হাওয়ায়। উদাসী চোখ মেলে সে খোঁজে এক অতি পরিচিত অবয়ব কে।কথা দিয়েছিলো, একদিন সে আসবেই, এই পিঞ্জরাবদ্ধ পাখি কে মুক্ত করতে। কোনোদিন খুঁজে পায়না ডেসডিমোনা তাকে , তবু  জানে, একদিন সে আসবেই। কথা সে রাখবেই। বন্দিনী রাজনন্দিনীর মতো ডেসডিমোনা। রাজপুত্রের আশায় রোজ জ্বালিয়ে রাখে পিলসুজ, ঘরের কুলুঙ্গিতে। রাত্রি গভীর হলে, শহরের কোলাহল ক্রমে কমে আসে। সে আবার তখন এসে দাঁড়ায় পেছনের বারান্দায়। অন্ধকার আকাশ ঘিরে ধরে তাকে। কবরীবদ্ধ লম্বা চুল মেলে দেয় তখন। চোখ বন্ধ করে ফিসফিসিয়ে  প্রশ্ন করে সে নোনা বাতাসের কাছে। আর, এক ফোঁটা স্বাতী নক্ষত্রের জল এসে পরে তার মাথায়। 

- তবে সে কি শুধুই মিথ্যা আশা?
- ধৈর্য ধর, একদিন সে আসবেই। শুধু তোমাকে নিতেই সে আসবে। 
- ঈশ্বর, এ কেমন প্রেম? যেখানে শুধুই বিষাদ? 
- যে প্রেমে বিরহ নেই, যেখানে মিলনের পথে কোনো বাধা নেই, সে প্রেম মিছে।

আর একটি রাত কেটে যায়। সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে গীর্জার ধ্বনি বেজে ওঠে। মোমদানির মোমের শেষ আলোটুকু মিলিয়ে যায় সূর্যের কাছে নতজানু হয়ে। এই যে বেঁচে থাকা তার মধ্যে এক অনন্তের হাতছানি আছে। 

পৃথিবীর অপর প্রান্তে তখন সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বলে উঠছে ধীরে ধীরে।কুলবধূর শাঁখের আওয়াজে তুলসীতলা মাতোয়ারা। সকল গোপিনী ঘরে ফিরে আসে।শ্রী রাধিকার উদাস নয়ন যমুনার ধারে। আজ তো বাঁশি শুনলাম না? ঈশান কোনে ঘনিয়ে আসে নববর্ষা। পূবালী হওয়া বয়। উড়িয়ে দেয় রাধিকা তার আঁচল হাওয়ায়  - যাক উড়ে যাক। এ রূপ, এ যৌবন এ মধুবন, এ কুঞ্জ, সব যে বৃথা তাঁকে ছাড়া। সযত্নে রক্ষিত ভালোবাসার সব স্মৃতি তার শরীর জুড়ে, পরতে পরতে। এত কাছে তবু তাকে পাওয়া যায় না। গোপন অভিসারে যে ঘনশ্যাম কে আঁকড়ে ধরে রাধিকা বাঁচে, তিনি যে তার হতে হতেও হন না। পূবালী হওয়া বয়, জলের কথা বয়ে আনে কানে। 

- সে প্রেম কেমন, যাকে  আমার বলে পাইনা ?
-পেয়ে গেলেই তো শেষ। অপেক্ষাই তো প্রেম। 

একটি একটি করে দিন কাটে। বৃষ্টি থেমে যায়, সন্ধ্যামালতী ফোটে। তোমাকে দেখেছি আমি রাত্রিশেষের বেলায়। তোমাকে দেখেছি আমি উল্কাপাতের আলোয়। ভোরের সুবাসে, দু চোখের পরম মায়ায়। এ জন্মের মতো প্রেম হয়েও হলো না আর। জলের শব্দেরা গান গেয়ে যায়, পরজন্মের কথা বলে শুধু। এই জন্ম যে শুধুই অপেক্ষা।এ এক অজ্ঞাতবাস। 

নীলনয়না সুন্দরী অভিশাপগ্রস্তা। কবে কোন দুর্বাসামুনির অভিশাপ কে জানে। প্রেমের সব প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেই প্রেমিক প্রবর যেন হিমশীতল সমাধিতে - একটা আবর্তের মধ্যে সমায়িত। আকাশ- বাতাস ফুঁড়ে কেউ বলে ওঠে,

-'পথিক তুমি কি পথ হারিয়েছো?'
-' হ্যাঁ , সমুদ্রে যাবো আমি, এই হিমশীতল উপত্যকা আমার দেশ নয়'

দুহাতে বরফ সরায় সেই প্রেমিক পথিক। আকুল নয়নে সে সমুদ্রের পথ খুঁজছে। নীল সমুদ্রের কাছে পৌঁছতেই হবে তাকে। ডেসডিমোনা , ডেসডিমোনা ! বাতাসে সমুদ্রের ঘ্রান। তবু খুঁজে পায়না। নীল সমুদ্র এক মহা সমুদ্র। প্রাণের আবির্ভাব তো সমুদ্রেই হয়েছিল। এ এক জন্ম যন্ত্রনা, যেখানে অশরীরী খুঁজে বেড়ায় মাতৃ গর্ভ। 


প্রকান্ড শব্দ করে মিলিয়ে গেল সাবওয়ে সামনে থেকে। নেমে আসে যুবক এক পৃথিবী জনতার একজন হয়ে। চলমান সিঁড়ি ভেঙে উঠে আসে পাতাল থেকে, টাইমস-স্কয়ারে। লোকে-লোকারণ্য চারিদিক। নীল-বসনা, নীল-নয়না।সারাজীবন ধরে সেই প্রেম সে খুঁজে বেড়ায় পরশপাথরের মতো । জন্ম থেকে জন্মান্তর - খুঁজে পেলো কি তাকে ? না, প্রেম তো চিরকালীন এক মিলনের তপস্যা। বলেছিলাম না, দুর্বাসা মুনির অভিশাপ রয়েছে। আর সেই ডেসডিমোনা, কিংবা রাধিকা তাদের কি হলো? তারা এখনো বন্দিনী। এখনো আশা করে তারা, রাজপুত্র আসবে একদিন, এ অজ্ঞাতবাস শেষ হবে একদিন। কেউ বা বাসর ঘরে, কেউ হয়তো ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি রুমে, তবু রোজ চাঁদ ওঠে আর অস্ত যায়। 



* চন্দ্রবিন্দু 


Wednesday, June 10, 2020

Intoxication

"ফুল ফুটুক নাই বা ফুটুক, আজ বসন্ত"

I call it HIGH when there is no opiate.
It's just you and me talking to our eyes.
I repeat, it's just you and me;
and La solitude.
Bro, I call it HIGH when there is Love.

It's not the first time babes,
that somebody's touching me.
Thrilled I called each time then,
HIGH I call it now.
'coz Dude, you have touched my soul.

Hell ya, I love thy eyes.
Cute face and lips, all that is mine.
But most adorable is the fucking brain,
the soul, and all the mind games.
I confess I love the way you LOVE me.

#Sassy_balaa










Wednesday, July 25, 2018

কবিতার জন্ম



মিষ্টি রোদের নিভে আসা বিকেলে,
একটা আধটা জোনাকির মতো
জ্বলে ওঠে হ্যালোজেন।

এলোমেলো কথা বুনে চলি আর,
ভিড়ের মধ্যে তার
ভুল করে হাত,
ছুঁয়ে যায় আঙুলে।


অবশ হাতের স্থান হয় পকেটে,
আর,
সব কথা থেমে যায় 'সরি' তে ;

তারপর
নেমে আসা চোখের তারায়,
লেখা ছিল,
কিছু হার বড় প্রিয়, যদি
শব্দেরা ভীড় করে কবিতায়।
















Thursday, October 6, 2016

আবার এসেছে শরৎ, এই স্টার্কভিলেও। সূর্যের রঙে সোনা ধরেছে ,ঘাসের ওপর শিশির বিন্দু; আর সহস্র মাইল দূরে বসে আমায় ধরেছে অমোঘ পিছুটান। আবহসংগীতের মতো গ্রাস করেছে আগমনী।পুজো মানেই ঘুরে ফিরে আসলে এই হোম কামিং।ঊমা ফিরেছেন পিতৃগৃহে, সদ্য বিয়ে হওয়া মেয়েটি ও এই কদিন ফিরবে তাই মায়ের কাছে। প্রবাসীরা ফিরবে ঘরে। তাই দুর্গাপুজো নেহাত -ই একটা ঘরে ফেরার উজ্জাপন। মনের ভেতরের সেই শাশ্বত হরিহর কেবলই নিশ্চিন্দিপুরে ফিরে ফিরে যাচ্ছে।
 আমার পুজো আটকে আছে এখনো আমার স্মৃতির হরাইজন এ থাকা মেয়ে বেলায় কিংবা ক্লাস সিক্সের স্কার্ট পরা শিউলি তলায়, কিংবা সদ্য যৌবনের কলেজ পাড়ায়। এক একটা স্মৃতির এক একটা গন্ধ এখনো নাকে লেগে আছে। 
পুজো নিয়ে সব থেকে পুরোনো স্মৃতি যেটা মনে পরে সেটা ঠিক কোন বয়সের মনে নেই , কিন্তু দাদু - ঠাকুমা র মাঝে আমাদের পুরোনো বাড়ি তে শুয়ে ঘুমোনো।ভোরবেলা ৪টের সময় ঘুম দেখি ঘরে বাল্বের হলুদ আলো, একরাশ শিউলি আর জবা ফুল নিয়ে ঠাকুমা ঘরে ঢুকছেন। সেটা ছিল ওনার রোজকার পুজোর সময়। তখন নতুন জামায় যেন একটা গন্ধ ছিল, ছিট কাপড় এর গন্ধ। বাবা চিরকাল বলতেন নতুন জামা ধুয়ে পড়তে হয়।ধুয়ে কি না ধুয়ে জানি না তবে সকল বেলা স্নানের পর নতুন জামা পড়তে হয় আর তারপর দূর্গা ঠাকুর প্রণাম করতে যেতে হয়। কিন্তু গলি রাস্তায় অবশ্যম্ভাবী জল জমে থাকবে তখন- ও। পায়ের পাতা ডোবা জল মাড়িয়ে প্যান্ডেলে গিয়ে প্রথম দাঁড়ানো। জমে থাকা জল,প্যান্ডেল এর কাপড়,ব্লিচিং পাউডার এর সঙ্গে ধুপ ধুনোর গন্ধ। সব চেয়ে ছোটবেলার যে পুজোর সুর মনে আছে , না, মহালয়ার সুর নয়,শাহরুখ খান র দিওয়ানা সিনেমার " তেরা নাম লিখ দিয়া। .!" বলিউড জিন্দাবাদ!দিব্যা ভারতী খায় না মাথায় দেয় না বুঝলেও কিন্তু এই গানটা থেকে গেছে।এখনো এটা শুনলে মনে হয় সপ্তমী সকালে বাবার সঙ্গে রিক্সা করে যাচ্ছি। খুব একটা আনন্দ হচ্ছে,আর কোথাও থেকে মাইকে এই গানটা বাজছে।
শুভ শারদীয়া।দেশে,বিদেশে,মহাকাশে প্রত্যেক হৃদয়ে বোধন হোক শ্রী দূর্গার । 
#তব _অচিন্ত্য _রূপ _চরিত _মহিমা !

Sunday, July 6, 2014

মোক্ষয়ং

শ্রাবণী পূর্নিমা। বর্ষণ সিক্ত হিমালয় কেঁপে কেঁপে উঠছে জোলো বাতাসে। মেঘ -গম্ভীর আকাশের বুক চিড়ে  মাঝে মধ্যে চাঁদের হাসি খেলে যাচ্ছে বিদ্যুতের মত , আর গৈরিক বসন হিমালয় হয়ে উঠছে ধ্যানগম্ভীর। উত্তর দিক থেকে ভেসে আসছে আর্দ্র বাতাস কোন এক নাম না জানা ফুল এর গন্ধ নিয়ে , পাহাড় এর ঐদিকে বোধ করি খুব  বৃষ্টি , গেছে ক্ষানিক আগে। দূরের বৌদ্ধ গুহা থেকে ধ্বনিত হচ্ছে বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি ! আবার এক রাশ মেঘ এসে কালো করে দিচ্ছে সব দিক, ওমনি বিরহী যক্ষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে দেবভূমি।
 আজ স্বপ্নের মত মায়াবী হয়ে আছে হিমালয়। ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ আর পূর্নিমার চাঁদ আকাশে। রাত্রির  ঠিক মধ্যভাগ এখন, ঠান্ডায় জলে বাতাসে অন্ধকার জড়াজড়ি করে ঘুমোচ্ছে যেন, কোথাও কেউ নেই আজ। রাত পাখিটাও  গান গাইতে ভুলে গেছে যেন কিসের অপেক্ষায়।
রাত দ্বিপ্রহর। বেজে উঠলো সেই বাঁশি।প্রতি শ্রাবনী পূর্নিমা র মত আজ ও সেই বৃদ্ধ সাধক যেন প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন বাঁশি তে, আর একটু একটু করে সরস্বতী রাগের আলাপ বিস্তার হচ্ছে। আকাশ- বাতাস- পাহাড় ধ্যান ভেঙ্গে  ডুবে যাচ্ছে সেই সরস্বতী র সুর মূর্ছনায়। ক্রমশ সেই সুর যেন সপ্তলোক ভেদ করে গিয়ে পৌঁছলো দেবীর কানে ,অকাল বোধন ঘটলো আবার। জেগে উঠলেন দেবী,অমোঘ সেই আহ্বান।'ইহাগচ্ছ ,ইহতিষ্ঠ !' সুরের পথ বেয়ে ঝর্ণার মতো নেমে আসছেন দেবী।  পাহাড়ের প্রতিটি ভাঁজে,গাছের প্রতিটি পাতায় ধীরে ধীরে  তাঁর প্রকাশ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে।
আর সেই বাঁশি বাদক সাধকের অস্তিত্ত যেন নিমজ্জিত রাগিনী র সুরজালে ,নিমীলিত নয়ন, প্রশান্ত বদন,স্নিগ্ধ হাসি।চারিদিকে শুদ্ধতম সরস্বতী রাগের নিপুন স্বরবিস্তার। বহু বছরের চেষ্টায়,বহুদিনের সাধনায় আজ তিনি পূর্ণ,দেবী সরস্বতী তাই আজ ধরা দিয়েছেন, বিশুদ্ধ রাগিনীর সুদ্ধ স্বর আঘাত করেছে প্রতিটি তন্ত্রী তে তাঁর,তাই নেমে এসেছেন বাগদেবী আজ এই হিমালয়ে র কোনে।গাছের পাতায়,মাটির ঘাসে,তুষার শৃঙ্গে,চাঁদের আলোয়,পদ্ম বনে, শিশির কণিকায়।
বাঁশি বেজে চলেছে একমনে,দেবভূমি যেন এক ছন্দে কম্পমান। আর ,একটু একটু করে প্রকাশিত হচ্ছেন দেবী স্বশরীরে। "যা কুন্দেন্দু তুষারহারধবলা।.."। একটু একটু করে জমাট বাঁধছে জ্যোতি , স্থির চপলা সরস্বতী আবির্ভূত হচ্ছেন। নিরাকার থেকে সাকার রূপ ধারণ করছেন। সমগ্র হিমালয় নতমস্তকে আহ্বান জানাচ্ছে , সাধক এখন সিদ্ধ লাভের প্রাক্কালে। ইষ্ট দেবী অভির্ভুতা হয়েছেন তাঁর আহ্বানে।
বাঁশি শেষ হলো অবশেষে , রাত্রি শেষ হয়ে এসেছে , চাঁদ ঢলে পড়েছে পশ্চিম গগনে। জমাট বেঁধেছে মেঘ আবার ঈশান কোনে। দেবী বন্দিনী হলেন আজ,সাধকের তন্ত্রী তে। সাধক তাঁর বাঁশি সমর্পন করলেন দেবীর পদতলে।
সবাই দেখল পরদিন সকালে,সাধক দেহত্যাগ করেছেন পাহাড়ের গায়ে রাত্রির কোন এক প্রহরে।
 উন্মুক্ত হিমালয়ের কোলে বসে,নক্ষত্রের আলোকে জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজনা বাজিয়েছিলেন তিনি সেই রাতে। পারি দিয়েছেন গন্ধর্বলোকে ,দেবী সরস্বতী র হাত ধরে।


Wednesday, June 11, 2014

নয়ন এর দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো.....যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো !

যুগ যুগান্ত ধরে জমে থাকা বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস। সূচিভেদ্য অমানিশা। এ মহারাত্রি যেন কালরাত্রি, কিন্তু সে মোহময় কালরাত্রি র গরল আমায় স্পর্শ করে না। এই অন্ধকারেই তো বেহুলা ভেসেছিল কলাপাতার ভেলা নিয়ে। তাই এ রাত্রি লখিন্দর এর মৃত্যুর রাত নয় , তার নবজন্মের শুভক্ষণ। এ মহানিশা শুধুই অপেক্ষার। সুরঙ্গশেষ এর অপেক্ষা।
মনে হয় , এ রাত্রি আর শেষ হবে না এই জন্মে ; ক্লান্ত, বড় ক্লান্ত সে প্রতীক্ষা। মহাকাল চোখের পাতা ফেলেন, কেটে যায় অনন্ত কাল।অন্ধকার যেন আরো ঘনীভূত হয় , আরো কালো হয় সেই রাত।
ভগবান সৃষ্টি কল্পের কাজ শেষ করেছেন সবে,  ক্লান্ত , যোগনিদ্রায় বিশ্রাম রত । জাগিও না ওনাকে। অন্ধকারে অপেক্ষা কর, ধৈর্য ধর, জীবন এর সকল পুন্যক্ষণ এর পুর্বলগ্ন এমনি ক্লান্তিকর। এ তমসা ও তাই জ্যোতির্গর্ভা। ভগবান এখনো আলো সৃষ্টি করেননি , তাই বিশ্ব চরাচর এখনো চোখ মেলে তাকাতে শেখেনি ।পুণ্যতোয়া আলোর ধারা এখনো বাইরে আসেনি, অন্ধকারের মাতৃগর্ভে লালিত হচ্ছে।তাই চোখে দেখা যায় না, অনুভব করতে হয় ।চোখ বন্ধ করে অন্ধকার যখন আরো গভীর হয়, ধীরে ধীরে চেতনায় ধরা পরে তার অস্ত্বিত্ব ,আবেগে রোমকূপ শিহরিত হয়। তখন সৃষ্টি সুখের উল্লাস বইছে বিশ্বময়, কিন্তু ফল্গু ধারার মত অন্তরালে, তাই সব কিছু সমাহিত, অন্ধকার এ নিমজ্জিত। এ অন্ধকার সেই মাতৃ জঠর এর অন্ধকার, উষ্ণতায় মোড়া, আসন্ন প্রসবের অপেক্ষায় ধ্যান মগ্ন।
হিসেব নেই কিভাবে কখন কাটল এ অনন্ত রাত, হঠাত ই একদিন কিভাবে কার যেন বরে ভগীরথের তপস্যা সফল হলো ।ভগবান জেগে উঠলেন, নিবৃত্তি শেষে প্রবৃত্তির সময় এল আবার। তিনি এক এক করে জ্বেলে দিলেন সব বাতি গুলি নিজের হাতে, ঠিক দীপাবলী র রাত্রি র মত।  যেন  চক্ষু দান হল ব্রহ্মান্ডের।জ্বলে উঠলো এক এক করে নক্ষত্র পুঞ্জ, জন্ম নিলেন দেবতারা ; জন্ম নিল স্বর্গ - নরক, সুরাসুর ; জন্ম নিল আলোক - ভূলোক, পাপ - পুণ্য ;  প্রজ্জ্বলিত হলো জীবনের প্রবাহ। সেদিন তিনি "আমি" থেকে "আমরা" হলেন  ।
 সেই থেকে প্রতি রাত আজ ও সাজে দীপাবলী র সাজে। আকাশ ভরা সূর্য তারা যেন মনে করিয়ে দিতে চায় প্রতি মুহুর্তে জীবন এর মন্ত্র -  চরৈবেতি, চরৈবেতি। 


Sunday, January 20, 2013

As it comes in mind

'main aur meri tanhaiye aksaar ye bate karte hain'!



This candid piece is like a repartee with my own thoughts. Life, as it surrounds me, often creates a doodle. Sometimes those tiny bits of art animate and start talking to me - The words start flowing into a sentence, and the sentences shout out as a story. I have always been fascinated by the power of storytelling, indeed. 

As it comes into my mind, like a cascade, however, a pretty unembellished anecdote. Nothing but just like a forgotten piece of flower or some loose leaves left inside a long-lost old diary. Years after, thousands of miles away, while sitting on a lonely couch, in the middle of a Kojagori Lakshmi Puja night, I recall them. And the sepia-toned flashbacks are popping out in front of my eyes. 


The Late October fall nights have their very own distinctive heavy smell. We call it 'Hemanta' or late autumn. The night becomes slightly foggy with a hint of chill. But the Orion (The Kalpurusha) shines bright like a diamond in the backdrop of a dark canopy. After dinner in the night, if you stand by the window or go to the backyard or on the terrace, you probably need the warmth of a comfy light shawl. Sometimes I close my eyes and try to take a deep breath. As I said before, the air has a very unique charm. It is mixed with a very light scent of Shiuli and a heavily intoxicated smell of Chhatim. This heavy smell in the air and the Orion in the sky always leaves a sense of Deja vu in me. I feel like an old soul, blissfully content. It kinda reminds me of my very own existence, me being alive, since forever.


Ages back, It was the day of the Kojagori. For the uninitiated, this is a religious festival (particularly in the Bengal) or a special prayer ceremony, celebrated in almost every Bengali household on a particular full moon day,  just after the Durga Puja (Navaratri) is overThe typical time of the year is mid-late October-ish / November first week. Those were the most joyous times of the year. The usual 'festive' season. This was the time of that bygone era when there was no cell phone or internet to entertain us every now and then. I was in my middle school, enjoying my 'Puja' vacation. The rain seized, the exam was over, and the autumn had set her foot in. I was happy; however, the sheer joy was of no reason in particular. 

My story is all about the Lakshmi Puja night. The daytime was over with all usual prep-work, followed by the equally busy evening 'show-time.'  When it was all over at night, we suddenly got a power cut (typical on those days). The weather was pretty comfortable, so it was not bothering. The silvery-white moon was already up in the sky. Without the streetlights, the moonshine appeared to be even more beautiful and dreamy. After dinner with the simple Prasaad (offerings),  it was still dark with no power when we called off the day.

In that night, I remember, I was sharing my room with my mom upstairs. There was a window kept open near to the feet. It was the late-night when I suddenly woke up, maybe in thirst for water or in need of going to the washroom. Still, there was no electricity.

While returning from the kitchen, I looked out through the window and was taken aback. All I saw was the moon, preparing for setting down. It was looking as big as the rising sun, however hued as glittery white just as the new silver coin.  There was a dark tall tree standing adjacent in my sight, just to make the frame more picturesque. I stood by the window for a while, watching out like hypnotized. Although I did not know what I was looking for. The moon rays formed a foggy white canopy, busy whispering with the Fall air. Maybe the Universe was stopped for a while and was trying to talk to me. All I had were a series of realization. 


According to Hindu mythology and tradition, the Goddess Lakshmi brings fortune and wealth to the worshipper. That night perhaps I realized the true meaning of this. This is the spiritual wealth (not the worldly one) that makes the inner self wealthy. So the Lakshmi-puja is all about seeking or appreciating the spiritual wealth, not the material one. The Goddess Lakshmi is also known as the 'Sree' - which means 'the beauty.' She is manifested through the universe's cosmic beauty - in the nitty-gritty details of the space-time fabric.  So, the deity who personifies the definition of beauty (Sree) and gives away the wealth and luck is actually in the nature surrounding us. She makes one wealthy through the inner spiritual soul. The divinity is embedded in the universe without any shape. We gave a pretty face to her for our ease and kept her locked in the Puja room. But if the inner-soul is rich enough, one can find her everywhere.

Don't know how long I stood moved and captivated like that until I realized a teardrop rolled down. It was serene and supernatural at the same time.  It was as if I was looking through the distant corner of the galaxy! It was as if the Goddess Lakshmi was showing off her divine face to me!  It was such a strong and surreal sensation that I was emotionally drained. I was too high on Life!






* The picture is taken from my backyard (Mississippi, USA) on Kojagori 2020!